আমরা ছবি দেখি কেন? স্থান-কালের আধারে আমরা অতি ক্ষুদ্র রূপে আছি। আমাদের সেই সংক্ষিপ্ত সীমার বাইরে রয়েছে অনন্ত সম্ভাবনাময় পূর্ণতার বিস্তার। তার কিছু বৃহত্তর প্রকাশ খুঁজে পাই ছবি তথা সৃষ্টির মধ্যে। তাই ছবি দেখি বারে বারে।

শিল্পী তাঁর ভাবনায় ছবি আঁকেন। দর্শক কি সে ভাবনায় দেখেন? যে যার নিজের মত করে ছবি দেখেন। এটাই তো স্বাভাবিক। সামগ্রিক ভাবে সব দর্শকের দেখাকে দুভাবে ভাবা যায়। কিছু দর্শক পাশ্চাত্য লৌকিক তথ্যভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারে ছবির ফর্ম, উপাদানসমূহের ন্যারেশান ইত্যাদি সমন্বয়ে শিল্পী ও শিল্প-রূপকে দেখেন ও বোঝার চেষ্টা করেন। আর অন্য ধরনের দর্শক ভারতীয় চিন্তা সূত্রে নিজেকে দেখেন ছবিতে। আত্মচেতনায় নিজের সম্প্রসারিত রূপকে দেখেন ছবির মধ্যে। রবীন্দ্রনাথের কথায় (‘আমি’ কবিতায়) “আমারই চেতনার রঙে পান্না হল সবুজ,/ চুনি উঠল রাঙা হয়ে।/ আমি চোখ মেললুম আকাশে, জ্বলে উঠলো আলো/ পুবে পশ্চিমে।/ গোলাপের দিকে চেয়ে বললুম “সুন্দর”,/ সুন্দর হল সে।“ রূপের লৌকিক সীমার বাইরে তার অলৌকিকতার সূত্র, তার অপূর্বতাকে সন্ধান করেন। শুধু রূপ নয় তার ভাব ও ভাব-সাদৃশ্যকে নিয়ে ছবির গভীরতম তাৎপর্যে দেখেন। আবার কেউ পোস্ট-মডার্ন সূত্রে দেরিদার ডিকন্সট্রাকশন নীতির উদ্ভ্রান্ত মতির আশ্রয় খোঁজেন ছবিতে। উভয় দেখার সব সম্ভাবনা সব ছবিতেই থাকে। ছবি একই থাকে, কেবল দেখার উপর নির্ভর করে। ছবি সবার জন্য। ছবি কাউকে ফেরায় না। সকলে আসুন আমার ছবির প্রদর্শনীতে যে যার আত্মসংস্কৃতি নিয়ে ছবিকে দেখুন ও উপভোগ করুন।
— ড. সুবিমলেন্দু বিকাশ সিনহা
Hi, this is a comment.
To get started with moderating, editing, and deleting comments, please visit the Comments screen in the dashboard.
Commenter avatars come from Gravatar.